বিপুল ও জয়নাল দুই জনই উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরে পড়াশোনা করে। তাদের আইসিটি শিক্ষক -"বিশ্বের পরিচ্ছন্ন শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি ঢাকায় ব্যবহার" বিষয়ে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে দিলেন। বিপুল কলেজ লাইব্রেরি এবং অন্যান্য লাইব্রেরিতে বসে বই পড়ে এবং ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করল। অ্যাসাইনমেন্টে সে সকল তথ্যসূত্র উল্লেখ করল। জয়নাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিনিয়র ভাইয়ের অ্যাসাইনমেন্ট ইন্টারনেট থেকে নিয়ে কিছুটা পরিবর্তন করে জমা দিল। জয়নালের অ্যাসাইনমেন্ট দেখে আইসিটি শিক্ষকের বুঝতে অসুবিধা হলো না এটি কপি করা।
ক. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কী?
খ. 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মৌলিক গবেষণা সম্ভব নয়'- ব্যাখ্যা কর।
গ. বিপুল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কোন অবদান ব্যবহার করেছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. প্রযুক্তির ব্যবহার বিবেচনায় বিপুল এবং জয়নালের কাজের বৈসাদৃশ্য মূল্যায়ন কর।
উত্তর:
ক. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হলো হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরিকৃত এমন এক ধরনের কৃত্রিম পরিবেশ, যা ব্যবহারকারীদের কাছে উপস্থাপন করা হলে এটিকে বাস্তব পরিবেশ বলে মনে হয়।
খ. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কোনো সমস্যার সমাধানের জন্য কী ধরনের সমাধান করতে হবে তার সম্ভাব্য সকল সমাধান প্রোগ্রাম আকারে যন্ত্র বা কম্পিউটারে পূর্বেই সংরক্ষণ করে দেওয়া হয়। যন্ত্র বা কম্পিউটার এর বাইরে কোনো বিষয় সমাধান করতে পারে না। কিন্তু মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক করতে হয়। যেহেতু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সংরক্ষিত প্রোগ্রামের বাইরে চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মৌলিক গবেষণা সম্ভব নয়।
গ. উদ্দীপকে বিপুল তার অ্যাসাইনমেন্ট তৈরিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে অবদান ব্যবহার করেছে তা হলো ইন্টারনেট। প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট এমনই এক সংযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে আক্ষরিক অর্থে সারা বিশ্বই চলে এসেছে মানুষের হাতের মুঠোয়। এর মাধ্যমে মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে তথ্য সংগ্রহ করা যায়। লেখাপড়া, গবেষণা, সাহিত্যচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, বই ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো সময় পাওয়া সম্ভব। এটি জ্ঞানভাণ্ডার লাইব্রেরিকে এনে দিয়েছে মানুষের হাতের মুঠোয়৷ ইন্টারনেটের সাহায্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত হতে যে কেউ বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরিতে প্রবেশ করতে পারে। সেখানকার বিভিন্ন বই থেকে তথ্যও সংগ্রহ করতে পারে। এই ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই বিপুল তার অ্যাসাইনমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংগ্রহ করে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন লাইব্রেরির বই পড়েও সে প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ বলা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান ইন্টারনেটের কল্যাণে বিপুল সহজেই তার অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করতে পেরেছে।
ঘ. ১৯৯২ সালে প্রণিত ‘কম্পিউটার ইথিক্স ইন্সটিটিউট'- এর কম্পিউটার ইথিক্স এর নির্দেশনা অনুসারে, অন্যের বুদ্ধিদীপ্ত বা গবেষণালব্ধ ফলাফলকে নিজের মালিকানা বলে দাবি করা যাবে না। অন্যের তথ্য বা গবেষণা লব্ধ ফলাফল ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়লে অবশ্যই মূল লেখক বা মূল কর্মের স্রষ্টার নাম অবশ্যই সংযোজন করতে হবে এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে তা অবশ্যই নৈতিকতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা 'প্লেজিয়ারিজম' অপরাধের আওতাভুক্ত৷ উদ্দীপকের বিপুল নৈতিকতার এসব নির্দেশনা মেনে প্রয়োজনীয় সকল তথ্যসূত্র উল্লেখ করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে। পক্ষান্তরে জয়নাল অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে কোনো প্রকার তথ্যসূত্র উল্লেখ না করে অন্য একজনের অ্যাসাইনমেন্ট কপি করে জমা দেয়। জয়নালের এ নীতিহীন কাজটি প্লেজিয়ারিজম অপারাধের আওতাভুক্ত। উপরের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, বিপুল ও জয়নালের কাজে নৈতিকতা ও আদর্শের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান। বিপুল নীতি ও আদর্শের অধিকারী হলেও জয়নাল নীতি ও আদর্শহীন একজন অপরাধী।
No comments yet. Be the first to comment!